fbpx

এক্সপোর্ট ডকুমেন্ট নিয়ে কিভাবে নেগোসিয়েশন করবেন?

All posts by Zuhayr Umran

এক্সপোর্ট ডকুমেন্ট নিয়ে কিভাবে নেগোসিয়েশন করবেন?

শিপমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে কাজ করবার আগে মনে রাখতে হবে এক্সপোর্ট ডকুমেন্ট এক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়। ডকুমেন্টে গোলমাল থাকলে রপ্তানিকারক পণ্য বিক্রয়ের অর্থ পেতে নানা ঝামেলার সম্মুখীন হবেন। কাজেই এক্সপোর্ট ডকুমেন্ট প্রস্তুতির খুঁটিনাঁটি বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হবে। এই লেখায় এক্সপোর্ট শিপমেন্টের মৌলিক বিষয়াদি এবং এক্সপোর্ট ডকুমেন্টের নেগোসিয়েশন সম্পর্কে বিশদ আলোচনা হবে। আসুন, এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাকঃ

এক্সপোর্ট ডকুমেন্ট নেগোসিয়েশন কী?

রপ্তানিকারক বায়ারের দেশে পণ্য পাঠাবার সময় সমস্ত ডকুমেন্ট ঋণপত্রের (এলসি) সাথে সংযুক্ত করবে। বায়ার অনেক ক্ষেত্রে ক্রয়াদেশ বা পার্চেজ অর্ডার দেওয়ার পর নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী এসব ডকুমেন্টের তালিকা পাঠান। তালিকা অনুযায়ী প্রস্তুতির পর রপ্তানিকারক এসব ডকুমেন্ট ব্যাংকে জমা দেন। ব্যাংক সমস্ত ডকুমেন্ট পরীক্ষা করে। কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকলে পরবর্তী প্রক্রিয়া যেমন অর্থ ধার দেওয়ার মত বিষয়াদি শুরু হয়। আগাম অর্থ ধার দেওয়া বা লেনদেনে বিক্রেতার পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়া সংক্রান্ত এসব কার্যাবলিকেই বলে এক্সপোর্ট নেগোসিয়েশন।

নেগোসিয়েশন প্রক্রিয়া

কারখানা থেকে পণ্য আনবার পর আপনাকে শুল্ক বিভাগের এজেন্টদের নিয়োগ দিতে হবে। এরাই শুল্ক বিভাগের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আপনাকে প্রয়োজনীয় শিপিং ডকুমেন্ট জোগাড় করে দেবে। শুল্ক বিভাগ থেকে রপ্তানির অনুমতিপত্র স্বরূপ শিপিং বিল জোগাড় করে এবারে আপনাকে পরিবহনে পণ্য তুলে দিতে হবে, সেটা হতে পারে জাহাজ, বিমান বা ট্রাকের মত পণ্যবাহী যেকোন পরিবহন। পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবারে পণ্য গন্তব্যে বায়ারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। পণ্য পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার পর বিল অব লেডিং ইস্যু করা হয়।

এক্সপোর্ট ডকুমেন্ট নিয়ে নেগোসিয়েশন চলাকালীন আপনাকে ঋণপত্রে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী সমস্ত ডকুমেন্ট গুছিয়ে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বায়ার ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্র (এলসি) খুলে নেগোসিয়েশন চালায়। ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার পর রপ্তানিকারকের ব্যাংক এসব কাগজপত্র বায়ারের ব্যাংকে পাঠিয়ে দেবে। কাজেই বায়ারের ব্যাংক থেকে পাঠানো ঋণপত্র হাতে পাওয়ার সাথে সাথে ওর কপি প্রস্তুত করবেন, বারবার চোখ বোলাবেন। দরকারে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি চিহ্নিত করে রাখুন। বিল অব লেডিং (বিএল), কারখানার পরিদর্শন সার্টিফিকেট, সার্টিফিকেট অব অরিজিন, আইনী কাগজপত্র, এসজিএস, বিভিকিউআই ইন্সপেকশন, ফাইটো স্যানিটারি সার্টিফিকেট, রাসায়নিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট, শিপড অন বোর্ড সার্টিফিকেট, ফ্রেইট সার্টিফিকেট প্রভৃতির প্রয়োজন হবে।  আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ পণ্য পরিদর্শন করবে কিনা বা কনস্যুলেটের দ্বারা সত্যায়িত করা সংক্রান্ত শর্তাদিও ঋণপত্রে উল্লেখ করা থাকে। এক্সপোর্ট ডকুমেন্ট ঋণপত্রে (এলসি) উল্লেখিত চাহিদা অনুযায়ী আছে কি-না তা বারবার পরীক্ষা করুন। কোন ভুল বা অমিল থাকলে তা শুধরে নিতে কিছু সময় ব্যয় হয়। কাজেই ডকুমেন্ট খুব সতর্কতার সাথে যাচাই করে নিতে হবে। এরপর ব্যাংকে জমা দিলে আপনার ব্যাংক এগুলি ব্যাংক বায়ারের ব্যাংকের কাছে পাঠিয়ে দেবে।

বায়ারের ব্যাংক সমস্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করে সন্তুষ্ট হলে বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াটি সহজ না সমস্যাজনক হবে তা নিচের বিষয়গুলির ওপর নির্ভর করেঃ

রপ্তানিকারকের অভিজ্ঞতা

রপ্তানিকারকের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সমস্ত ডকুমেন্ট কতটা সুষ্ঠুভাবে প্রস্তুত করে জমা দেওয়া হবে। 

বায়ারের সাথে সম্পর্ক

বায়ার অর্থাৎ আমদানিকারকের সাথে সম্পর্ক কেমন তার ওপরেও রপ্তানি নেগোসিয়েশন নির্ভর করে অনেকাংশে। বিশ্বাসযোগ্যতা বা পারস্পরিক সম্মানের ওপরেও এগুলি নির্ভরশীল। 

ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক

ব্যাংকের সাথে রপ্তানিকারকের সম্পর্ক ভাল হওয়া জরুরি। ডকুমেন্টে কোন ভুল থাকলে সেটা শোধরানোর জন্য এই ব্যাংকের কাছেই আপনাকে ধর্না দিতে হবে।

ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট

অর্থাৎ পণ্য পরিবহনের দায়িত্বে নিয়োজিত পক্ষের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে হবে।

ডকুমেন্ট জমা দেওয়াঃ

রপ্তানিকারক হিসেবে ব্যাংকে বেশকিছু এক্সপোর্ট ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। কি কি ডকুমেন্ট লাগবে তা একনজর দেখে নেওয়া যাকঃ

  • ব্যাংক থেকে পাওয়া অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম। ফর্ম ঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
  • বিল অব এক্সচেঞ্জ (অ্যাকাউন্টের মালিকের স্বাক্ষরসমেত)
  • সঠিকভাবে স্বাক্ষরযুক্ত বাণিজ্যিক ইনভয়েস
  • আসল বিল অব লেডিং, ফরোয়ার্ডার্স সার্টিফিকেট অব রেসিপ্ট বা এইচডব্লিউবি (রপ্তানি ঋণপত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ)
  • প্যাকিং লিস্ট
  • পরিদর্শন সার্টিফিকেট
  • বেনিফিসিয়ারি স্টেটমেন্ট
  • সার্টিফিকেট অব অরিজিন বা কোন চেম্বার থেকে ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট।          
  • ভিসা/ লাইসেন্স বা অনুমোদন/ জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্স (জিএসপি)।
  • এমসিডি (স্বাক্ষরকৃত)
  • রপ্তানির অনুমতিপত্র বা ইএক্সপি (শুল্ক কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে)
  • ইন্স্যুরেন্স পলিসি
  • ঋণপত্রে উল্লেখিত অন্য যেকোন ডকুমেন্ট

ব্যাংকে উপর্যুক্ত ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার পর ব্যাংক সেগুলিকে ঋণপত্রের সাথে মিলিয়ে দেখে।  সব ঠিকঠাক হলে ব্যাংক রপ্তানিকারকের পক্ষে নেগোসিয়েশন শুরু করে। কাগজপত্রে কোন ভুল থেকে থাকলে ব্যাংকের সহায়তায় সেটা শুধরে নেওয়া সম্ভব।

রপ্তানি ও আমদানির সাথে দু’টি পৃথক পক্ষ ছাড়াও উভয়ের পক্ষে নেগোসিয়েশনের দায়িত্ব পালন করে ব্যাংক। কাজেই ব্যাংকের মাধ্যমে এই জটিল আইনী ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া চালাতে হলে এক্সপোর্ট ডকুমেন্টের ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে। যেকোন অসঙ্গতি বা ভুল-ত্রুটি থাকলে তা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে বিলম্বিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

কিভাবে একজন ভাল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট খুঁজে পাবেন?

আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি পালন করে সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট। শিপমেন্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবার জন্য একমাত্র এই এজেন্টদেরই শুল্ক বিভাগে প্রবেশাধিকার আছে। ক্লিয়ারিং (আমদানির ক্ষেত্রে) আর ফরোয়ার্ডিং (রপ্তানির ক্ষেত্রে) এর জন্য রপ্তানিকারক সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট নিয়োগ দেন। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পদক্ষেপগুলিতে যেকোন ভুল হলে তা শোধরাতে প্রচুর অর্থ আর সময় ব্যয় করতে হয়। এসব পদক্ষেপ সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রাখেন সি অ্যাণ্ড এফ এজেন্টরা। শুল্ক বিভাগের হাল হকিকত সম্বন্ধেও এদের দক্ষতা রয়েছে। কাজেই প্রত্যেক রপ্তানিকারকের উচিত এই এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া।

কিভাবে সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট কাজ করে?

ওপরের চিত্র থেকে সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট এর কর্মতালিকা এবং রপ্তানিকারকের সাথে তাদের সম্পর্ক নিয়ে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। শিপমেন্ট এর আগে রপ্তানিকারক শুল্ক বিভাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শিপিং এর কার্যক্রম শুরু করবার জন্য এজেন্ট নিয়োগ দেয়। শুল্ক বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী যাবতীয় ডকুমেন্ট ও রপ্তানিকারক এই এই এজেন্টকে দেয়।

শিপমেন্ট প্রক্রিয়ার এজেন্ট এবং রপ্তানিকারক

শুল্ক বিভাগে পণ্য পৌঁছাবার পর সি অ্যান্ড এফ এজেন্টের কাজ শুরু হয়। প্রথমে তারা সমস্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পরীক্ষা করে। তারপর বিল অব এক্সপোর্ট প্রস্তুত করে। যদি কোন সংশোধনের প্রয়োজন হয় তবে এজেন্টরা রপ্তানিকারকের সাথে যোগাযোগ করে তা জানায়। শুল্ক বিভাগ থেকে রপ্তানির জন্য পণ্য পাঠাবার ক্ষেত্রে এ সমস্ত ডকুমেন্ট আর বিল অব এক্সপোর্ট শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শিপমেন্টের অনুমতি দিয়ে কাগজপত্র সত্যায়িত করে আবার এজেন্টকে ফেরত পাঠানো হয়। এজেন্ট তখন এসব কাগজপত্র আবার রপ্তানিকারককে দেয়। এর মাধ্যমে রপ্তানি বন্দর থেকে পণ্য পাঠাবার আনুষ্ঠানিক শুল্ক কার্যক্রম শেষ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

এজেন্টের দায়িত্বসমূহ

ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্টের কর্মতালিকা নিম্নরূপঃ

  • আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের কাছ থেকে পণ্য বুঝে নেওয়া।
  • পণ্য ঠিকভাবে গুদামজাত করা ।
  • শুল্ক বিভাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদন করা।
  • বিল অব এক্সপোর্ট প্রস্তুত করা।
  • সার্ভিস রেকর্ড ঠিকঠাক প্রস্তুত করা।

কিভাবে একজন ভাল এজেন্ট খুঁজে পাবেন?

শিপিং এর পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে সি অ্যান্ড এফ এজেন্টের রকমফের হয়। সব ক্ষেত্রে একই এজেন্ট না নিয়োগ দেওয়াই ভাল। কাজেই সঠিক এজেন্ট খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে কিছুটা ঝক্কি পোহাতে হতে পারে। নতুন রপ্তানিকারক হিসেবে আপনার জন্য কোন রেফারেন্সের মাধ্যমে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়াও আগের রেকর্ড এবং অন্যদের রিভিউ এর মাধ্যমেও আপনি এ কাজে সহায়তা পেতে পারেন।  

আপনাকে যেসব কাজে সাহায্য করবে

  • পরিবহন সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া।
  • স্থানীয় পরিবহনের ব্যবস্থা করা।
  • স্থানীয় আইন সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া।
  • পণ্য লেবেলিং ও প্যাকিং এর কাজ করে দেওয়া।
  • শুল্ক বিভাগের ছাড়পত্র যোগাড়ে সহায়তা করা।
  • শুল্ক করের ক্ষেত্রে ছাড় থাকলে তা আদায় করা।
  • পণ্যের কর জমা সংক্রান্ত কার্যাদি পালন করা।

এক কথায় বলা চলে, ভাল এজেন্ট পণ্য আপনার তাঁবে থেকে বার হওয়ার পর আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

এজেন্ট নিয়োগে খেয়াল রাখতে হবেঃ

  • পণ্য পরিবহনের সবগুলি খাত সম্পর্কে ভাল জ্ঞান আছে এমন এজেন্ট নিয়োগ দেবেন। তাহলে পরিবহন সংক্রান্ত কোন সমস্যা হলে সাথে সাথে বিকল্প বাতলে দেবে। 
  • গুদামে পণ্য জমা রাখা সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকা জরুরি।
  • ইন্স্যুরেন্স
  • শিপিং ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা ও ডকুমেন্ট সম্পর্কিত সর্ববিষয়ে অভিজ্ঞ।
  • ব্যাংকের আনুষ্ঠানিকতায় দক্ষ হওয়া।

এর সাথে ভাল হয় যদি বিদেশেও আপনার এজেন্টের ভাল যোগাযোগ থাকে। সেক্ষেত্রে সাময়িকভাবে পণ্য কোথাও জমা রাখা বা যেকোন সমস্যা বাধলে দ্রুততার সাথে সমাধানে সাহায্য করতে পারবে।

এজেন্ট নিয়োগে খোলাখুলি আলাপ করতে হবে

  • কি ধরণের পরিসেবা আপনাকে আপনার এজেন্ট দিবে? খেয়াল রাখবেন, ঠিক কি পরিসেবা আপনার দরকার। আপনার দরকার নেই এমন কাজের জন্য যেন বাড়তি ভাড়া দাবি না করে বসে সেদিকে দেখবেন।
  • উল্লিখিত সেবা দেওয়ার পাশাপাশি কতটা দায়দায়িত্ব এজেন্ট নিতে রাজি সে বিষয়ে আগেই খোলাসা হয়ে নেবেন।
  • কোন কোন খাতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে জেনে নেওয়া ভাল।
  • এজেন্টকে কি পরিমাণ অর্থ দিতে হবে।

সব দিক খেয়াল রেখে এজেন্ট ভাড়া করবার আগে অবশ্যই অন্যান্যদের কাছ থেকে মতামত নিলে ভাল হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সস্তায় সেবা দিলেও সেবার মান হয়তো খারাপ।

রপ্তানি বাণিজ্যে আপনার সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে আপনি কতখানি দ্রুততা আর দক্ষতার সাথে আপনার পণ্য বায়ারের কাছে শিপমেন্টে পাঠাতে পারছেন। আর এই কাজটি করার ক্ষেত্রে সবথেকে প্রয়োজনীয় কাজটি করে এই এজেন্ট। কাজেই সবদিক বিবেচনা করে সতর্কতার সাথে সি অ্যাণ্ড এফ এজেন্ট ভাড়া করবেন।

ভাল ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার নির্বাচনের কৌশল এবং তাদের কাজ

রপ্তানি বা আমদানিকারক ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আরো অনেকে। রপ্তানি বাণিজ্যের ঠিক তেমনি এক গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হল ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার । কী কাজ করে এই ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার? আর একজন সঠিক ও কার্যকর ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার নির্বাচনই বা করবেন কীভাবে? চলুন, দেখে নেওয়া যাক!

ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার কী?

রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকের পক্ষে পোর্টে যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি সমস্ত ফর্মালিটিস পূরণ করেন, তাকে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার বলা হয়। প্রয়োজনীয় ডকুমেমেন্টস যাচাই করা এবং লজিস্টিকাল সাপোর্ট দেওয়া ইত্যাদি একজন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারের কাজের অন্তর্ভূক্ত। মূলত, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার একজন রপ্তানিকারক বা রপ্তানি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশী কাস্টমস ক্লিয়ার করতে সাহায্য করে (রপ্তানিকারকের দেশের কাস্টমস)।

ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারের মূল দায়িত্বগুলো কী?

ফিগার ১ঃ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারের দায়িত্ব

একজন ভালো ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার নির্বাচন করার উপায় কী?

আপনি একজন কার্যকর ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার খুঁজছেন? সেক্ষেত্রে নিচের গুণাবলীগুলোর কথা মাথায় রেখে বাণিজ্যের জন্য একজন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারকে বেছে নিনঃ

বড় ধরণের পণ্যের কাজ সামলাতে সক্ষম

আপনার বাণিজ্যে যদি মাল্টি-মডেল শিপমেন্টের প্রয়োজন হয়, কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যদি আপনার পণ্য কোন ওয়ারহাউজে রাখার দরকার পড়ে, সেক্ষেত্রে মন একজন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারকে বেছে নিন যিনি আকাশপথে, সমুদ্রপথে, স্থলপথে সাহায্য করতে পারবেন এবং লজিস্টিকস সলিউশন্স দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে প্রথমেই সমভাবই ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারকে নিজের সাপ্লাই চেইনের সবগুলো ব্যাপার সম্পর্কে জানিয়ে দিন। এতে করে তিনি আপনার কাজগুলোতে কতটুকু সাহায্য করতে পারবেন তা বোঝা সম্ভব হবে।

বিদেশী এজেন্ট বা এজেন্সির সাথে ভালো সম্পর্ক

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য যথাযথ পরিমাণে লজিস্টিকস প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে আপনার কোম্পানির জন্য এমন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারকে বেছে নেওয়া প্রয়োজন যার বিশ্বব্যাপী এজেন্টের স্তাহে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। কোন একটি নির্দিষ্ট বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার নিয়োগদানে আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে, আমদানিকারকের দেশে তার যথাযথ সম্পর্ক ও যোগাযোগ রয়েছে। এতে করে আপনার কাছে বাণিজ্যের সমস্ত তথ্য খুব সহজেই চলে আসবে। পণ্য ঠিক সময়ে এবং ঠিকভাবে গন্তব্যস্থলে পৌঁছেছে কিনা তা জানা সম্ভব হবে।

লজিস্টিকস সেবা নির্ধারণে দক্ষ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা থাকে। ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার নিয়োগ দেওয়ার সময় আপনার যে সেবা প্রয়োজন তা তিনি প্রদান করতে পারবেন কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। এতে করে আপনার সমস্ত আন্তর্জাতিক শিপমেন্ট খুব সহজেই চলাচল করতে পারবে। কারণ, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারের লজিস্টিকস দক্ষতার উপরেই স্বাভাবিক শিপমেন্ট অনেকটাই নির্ভর করে।

আর্থিক সামর্থ্য

যদিও আপনি টাকা প্রদান করছেন, তা স্বত্ত্বেও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারের আর্থিক সামর্থ্য সম্পর্কে খোঁজ নিন। এমনটা হতেই পারে যে, আপনি ফরোয়ার্ডারকে ফ্রেটের জন্য টাকা দিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু তারপরেও শুধু ফরোয়ার্ডার ওশেন ক্যারিয়ারকে টাকা দিতে না পারায় রপ্তানি পণ্য যাত্রা শুরু করেনি। এমন ক্ষেত্রে আপনার কার্গো ছাড়তে দেরী হতে পারে এবং নানারকম কারণে পরবর্তীতে আপনার খরচ বেড়ে যেতে পারে।

প্রযুক্তিগত দক্ষতা

একজন মানসম্পন্ন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারের প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকা প্রয়োজন, যেটির মাধ্যমে আপনি বাড়তি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। পণ্য ট্র্যাকিং তো রয়েছেই, এছাড়াও প্রতিনিয়ত সাপ্লাই চেইনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন সব প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হচ্ছে। সেসব ব্যাপারেও আপনার জানা থাকা প্রয়োজন।

যথাযথ যোগাযোগ এবং ট্র্যাকিং করার ক্ষমতা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপের ট্র্যাকিং করা, শিপমেন্টের যাতায়াত লক্ষ্য করা ও রিপোর্ট প্রদান করা একজন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারের দায়িত্ব। এতে করে শিপমেন্ট ঠিক সময়ে ও ঠিকভাবে পরিকল্পনানুসারে যাচ্ছে কিনা তা জানা সম্ভব হয়। কোন কারণে শিপমেন্ট পরিকল্পনা অনুসারে না চললে এই রিপোর্টের মাধ্যমেই সেটাকে সঠিক ট্র্যাকে আনা সম্ভব হয়।

বিশ্বাসযোগ্য কার্গো ইনস্যুরেন্স পলিসি

ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারের একটি বিশ্বাসযোগ্য কার্গো ইনস্যুরেন্স পলিসি থাকা প্রয়োজন। এটি কার্গোর কোনরকম ক্ষতি হওয়ার, তৃতীয় পক্ষের দায়িত্ব এবং আনকালেক্টেড কার্গো কস্ট সংক্রান্ত সমস্ত আইনি ও চুক্তিভিত্তিক দিকগুলো কভার করে।

নেগোশিয়েট করার সামর্থ্য

ব্যবসার কাজে কোন সেবা গ্রহণের সময় অবশ্যই দামের তুলনা করার দরকার পড়ে। তবে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি কোন পণ্য কেনার মতো এতো সহজ নয়। মূল্যের ভিত্তিতে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের তুলনা করতে গেলে প্রথমেই তাদেরকে বাদ দেওয়া হয় যারা প্রয়োজনীয় সবগুলো সেবা প্রদান করছে না। হয়তো কোন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার আপনাকে কম খরচে কাজের অফার দিচ্ছে, কিন্তু তার মাধ্যমে যদি আপনি আপনার দরকারি সবগুলো কাজ না করাতে পারেন, সেক্ষেত্রে সেই ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারকে বাদ দেওয়াই সমীচীন।

রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন? মনে রাখুন এই কথাগুলো!

নতুন রপ্তানিকারক হিসেবে প্রথমেই একজন ভালো মানের ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার খুঁজে পাওয়া আপনার জন্য কঠিন হতে পারে। সেক্ষেত্রে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারের সার্ভিস রেকর্ড দেখে নিন। সেক্ষেত্রে আপনি নির্দিষ্ট কোন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারের নেগোশিয়েটিং পাওয়ার কতটা বেশি তা বুঝতে পারবেন। বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সুনাম এবং রিভিউ-এর উপরে ভিত্তি করেই একজন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার বেছে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কিছু ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং কোম্পানি

  • মেরিটাইম সার্ভিস লিমিটেড
  • গ্রিন বাংলা শিপিং লিমিটেড
  • সামাদসন্স গ্রুপ
  • এপেক্স ইউনিমেরিন লিমিটেড
  • অ্যাওয়ার্ডস ট্রান্সপোর্টেশন লিমিটেড
  • বার্থা
  • বেনিসন ইন্টারন্যাশনাল
  • সিডিএন (বিডি) লিমিটেড
  • ডি. এস. লাইন লিমিটেড
  • ফাস্ট ফ্রেইট সার্ভিস ইত্যাদি

বাণিজ্যের সফলতার পেছনে একজন সঠিক ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অনেকাংশেই কাজ করে থাকে। তাই দ্রুত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সময় নিয়ে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার নির্বাচন করুন।

Terms You Need to Know to Get Export Payments

Getting export payment is undoubtedly the most satisfying moment as an exporter. Export payments are one of the joys and sorrows of export trade. The reason for the joy is obvious. Those who are earning bread by exporting, they will be happy. But understanding the export payment properly is also a matter of great concern at the same time.

Export payment is a complex process. Having an idea of ​​the following ten issues will help you understand the complexities of export payments. They will also work in case of timely payment.

Consignment as Export Payments

Invoices that are used for ordering export is called a consignment. Before going to the final contract and activities, consignment will be signed with mutual consent of both the importer and exporter.

Letter of Credit (LC)

Well, this is about Letter of Credit, which is called the international transaction paying document. Without Letter of Credit, international trade can’t happen. LC is a guarantee given by importer’s bank to the Exporter to pay the bill on behalf of his customers or importers. Issuing bank provides LC when importer has much reserve money in his bank account. In some cases, issuing bank issues LC without having much reserve money of importer if importer has so much fame in international business or by seeing his current economic conditions, his past international trades etc.

Telegraphic Transfer (TT)

Also Known as Telex transfer, TT is the most widely used method of payment in Bangladesh Export Transactions. Simply put TT is an advance wire transfer of payment against Export invoices. Overwhelmingly favored by exporters as money is received beforehand and short time frame. TT is not a preferred method for importers. However, depending on the level of authority of the buyers and sellers, Business deals can be done through TT. TT is an electronic method of wire transferring done though Banks

Back to Back LC

When one or more new LCs are opened based on a Master LC, it is called Back-to-back LC. According to the needs of the buyer or importer needs to import raw materials for the production of the product. For this purpose, LC is opened with LC Bank and it is the back-to-back LC.

A new LC can be opened for the import of raw material by securing an LC. Then open the new LC for the import to back-to-back LC.

Commercial Invoice

Commercial invoice is a type of customs document in foreign trade where the value of the exported product is mentioned (customs taxation determines the tax related to the sale of goods outside the country). The exporter has to submit it to his local bank for the acceptability of the price paid by the importer. This document contains the names of exporters and importers, exported product details, payment terms (LCs, TTs), commodity prices, exported products, etc.

Exporter prepares Commercial Invoice before the shipments in its own letterhead according to the number of shipments. If product is transported in two shipments, Exporter will prepare two commercial invoices. If shipment is three, Commercial Invoice will be three.

Demand Draft

The demand draft is a negotiable payment document. bank issues this document. This is an alternative to bank check. In this, a bank gives money to any other party on the other side, giving a draft to another bank.

Documents against Payment

Documents Against Payment (D / P) is a type of payment system in foreign trade. In this case, the buyer will pay the price immediately after getting the documents. This process is similar to LC at Sight, but the bank does not guarantee payment.

Since the buyer’s bank does not provide any guarantee, the cost of this method is the lowest. However, the transaction is a bit volatile since the bank does not provide any guarantee for paying the price. Moreover, there may be a risk of not accepting a buyer’s document or purchasing of a customer. However, if there is a very good relationship between the buyer and the seller, transactions in such a manner are safe.

Letter of Credit Authorization Form (LCAF)

LCAF is the Opening Application Form of Letter of Credit. It is the internal process of the bank. For importing goods, the issue was made from the authorized dealer branch of Bangladeshi commercial banks, according to Import Policy Order. The application is sent to L / C with the approval of the bank. This indent letter is to be shown to the taxpayers for the import of the goods.

Standby Letter of Credit

Standby Letter of Credit (SLOC) is a special letter of credit, where the issuing bank guarantees the payment to the third party only in the failure of its subscriber.

Under the letter of credit (LC), the issuing bank guarantees payment to the third party in its failure to pay the customer’s price. Then it is called the standby letter of credit / Standby Letter of Credit (SLOC). This is a special letter of credit (LC).

Swift Code

This is a secure communication network. Through which all money transmissions (basically banks) circulate throughout the world. Through its circulation, global financial transactions have become much safer, easier and quality.

Failure to receive export payments on time will disrupt the main purpose of your trade. While performing various functions related to the production and transportation of goods proper care should be taken.

How to Negotiate Export Documents Properly?

One thing you have to know regarding export management that banks deal only with documents. Without proper documents, payment will not be done. So, you need to know the detailed procedure of documents. By this content, we will learn about the basic of export negotiation and the process of negotiating export documents. Let’s discuss here.

When the seller (you) has shipped the cargo to the buyer’s country, he will prepare and consolidate all documents that are called for under the Letter of Credit (LC). Once this is done, seller will present the documents to a bank. The process whereby the bank examines the documents and claims proceeds and the willingness to give value, i.e. advance or discount the transaction to and on behalf of the seller, is known as Export Negotiation.

Export Documents Negotiation Process

Once your goods moved out of your factory, the Customs House Agents appointed by your complete customs formalities on behalf of you and delivers you necessary export shipping documents. Then, customs formalities completed and obtained ‘let export order’ shipping bill, you hand over cargo to the shipping line to carry you to the final destination at the buyer’s place. Once after handing over cargo to the shipping line, the Bill of Lading is issued.

While negotiating documents, you submit all required documents as per the letter of credit terms and conditions to bank to send to your overseas buyer though LC opening bank. When the shipment is under Letter of Credit, documentation is a crucial part as the opening bank debits you against any discrepancy found on documents. So, once you received a Letter of Credit, make a copy of the same and read carefully twice. Mark each and every point where ever necessary.

Whether any international inspection required, clean on-board bill of lading, factory inspection certificate, certificate of origin, legalized documents, consulate attestation, SGS, BVQI inspection, Phytosanitary certificate, chemical analysis certificate, shipped on board certificate, freight certificate, etc. List out the documents required to submit while negotiating bills. Go through each document minimum twice, whether each document is as per LC requirements. Make sure, all documents are there as per LC terms and not found any discrepancy in each of document. This is very important while submitting documents with the bank to send to the overseas buyers through the buyer’s bank.

Process Related Facts

Once the bank is satisfied with all the export documents, payment is done to the sellers account. Whether this process will be tough or easy that depends on the following facts:

Seller’s experience:

How well all the documents will be prepared and submitted depending on the experience of the exporter.

Relationship with buyers:

Export negotiations also largely depend on the relationship between the buyer and the importer. They also depend on credibility or mutual respect.

Relationship with the bank:

It is important for the exporter to have a good relationship with the bank. If there is any mistake in the document, you have to go to this bank to correct it.

Selection of forwarding agent:

In other words, one has to be sure about the party in charge of transporting goods.

Submission of Documents

When you are an exporter, you need to submit several documents to the bank. You need to submit the following documents:

  • Completed bank-supplied application form;
  • Bill of Exchange (signed by account holder);
  • Properly signed commercial invoice;
  • The original BL or FCR or HWB (according to the original export LC);
  • Packing list;
  • Inspection certificate;
  • Beneficiary Statement
  • Certificate of Origin or Country of Origin issued by any Chamber;
  • Visa / License / Certificate of Origin / GSP
  • MCD (must be signed properly);
  • EXP. (approved by the Customs Authority);
  • Insurance policy
  • Besides, any other document mentioned in LC.

After submitting the above-mentioned document bank, bank will check documents according to LC term and negotiate on behalf of exporters. However, if there is a mistake in the export documents, it should be corrected with the help of bank.

In addition to the two separate parties for export and import, the Bank is responsible for negotiations on both sides. Therefore, in order to run this complex legal and business process through the bank, special attention has to be paid to the export documents. Any inconsistencies or errors can delay and damage commercial operations.

Export Payment Methods: Which One Is Most Secure?

In international trade, Payment method is the way that a buyer chooses to pay the seller for goods or services. There are actually a number of option to choose from which a buyer and a seller mutually agreed upon. Exporters must offer their customers attractive sales terms supported by the appropriate payment methods. On the other hand, an appropriate export payment method must be chosen carefully to minimize the payment risk while also accommodating the needs of the buyer. Because getting paid in full and on time is the ultimate goal for each export sale

There are a number of payment methods for circulation in the export trade. Most of the case, it depends on the type of the export trade, the customer’s economic position, proposal and mutual trust between the seller and the buyer.

Different Export Payment Methods:

Cash in Advance:

With cash-in-advance payment terms, an exporter can avoid credit risk because payment is received before the ownership of the goods is transferred. For international sales, wire transfers and credit cards are the most commonly used cash-in-advance options available to exporters. However, requiring export payment in advance is the least attractive option for the buyer, because it creates unfavorable cash flow for them. It also offers the maximum risk concern for buyers as the goods are still in the hand of the exporter in a different country.

Letter of Credit (LC):

Letters of credit (LC) are one of the most secure instruments available to international traders. An LC is a commitment by a bank on behalf of the buyer that payment will be made to the exporter, provided that the terms and conditions stated in the LC have been met, as verified through the presentation of all required documents. An LC also protects the buyer since no payment obligation arises until the goods have been shipped as promised.

Documentary Collections:

A documentary collection (D/C) is a transaction whereby the exporter entrusts the collection of the payment for a sale to its bank (remitting bank), which sends the documents that its buyer needs to the importer’s bank (collecting bank), with instructions to release the documents to the buyer for export payment. However, Funds are received from the importer and remitted to the exporter through the banks involved in the collection in exchange for those documents.

Open Account:

An open account transaction is a sale where the goods are shipped and delivered before payment is due, which in international sales is typically in 30, 60 or 90 days. Obviously, this is one of the most advantageous options to the importer in terms of cash flow and cost, but it is consequently one of the highest risk options for an exporter. Consignment: Consignment in international trade is a variation of open account in which payment is sent to the exporter only after the goods have been sold by the foreign distributor to the end customer. Exporting on consignment is very risky as the exporter is not guaranteed any payment and its goods are in a foreign country in the hands of an independent distributor or agent.

Which Payment Method Is Best for Exporter?

In case of cash in advance, exporters can avoid credit risk because payment is received before the ownership of the goods is transferred. Exporters remain in the safest zone of transaction while importers are not. On the other side, payment in letter of credit (L/C) would be a perfect choice for both parties as both parties remain in same risk zone. Selection of methods of export payment basically depends on the trust building factor between exporter and importers.

Payment Risk in Export Import

As an exporter, ideally you would choose cash in advance for payments. But when you are dealing with a new buyer, it would be unwise to ask cash in advance as your payment term. Because the buyer might not agree such terms in their first trade with you. In that case, it will be handy for both exporter and importer to use letter of credit (L/C) payment method. This method is globally practiced in international business.     

Cash in advance and letter of credit methods are commonly used for general export in Bangladesh. However documentary collection, consignment and open account are also used for specialized export. Though Risk becomes a common factor in the process of payment. Based on the risk, the best method of payment can be chosen from both sides; importers and exporters. Methods of payment would be chosen based on trust building. When importers have trust on you, you have chance to receive payment through cash in advance. Otherwise letter of credit would be the most secure instruments available to international traders.  

বিদেশী বায়ার খোঁজার আধুনিক পদ্ধতি এবং সহজ গাইডলাইন

আপনার কি রপ্তানি যোগ্য পণ্য রয়েছে? খুব সহজেই আপনার পণ্যটি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে চাচ্ছেন? সঠিক নিয়মে সবগুলো ধাপ মেনে চললে পণ্য রপ্তানি করা খুব একটা কঠিন ব্যাপার নয়। হয়তো আপনি ইতিমধ্যেই পণ্য রপ্তানি করছেনও। তবে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সবসময় যে ব্যাপারটি সবচাইতে বেশি অগ্রাধিকার পায় সেটি হলো পণ্যের ক্রেতা বা বিদেশী বায়ার । আপনার ব্যবসা সফলতা তখনি পাবেন যখন রপ্তানিক্ষেত্রে বিদেশী বায়ার এর সংখ্যা সারা বিশ্বে আরো অনেক বৃদ্ধি পাবে। এখন প্রশ্ন হলো, রপ্তানি পণ্যের ক্রেতা খুঁজে পাবেন কীভাবে?

বিদেশী বায়ার বা ক্রেতা নির্বাচন করা এবং খুঁজে পাওয়া একটি  লম্বা প্রক্রিয়া। নানান রকম ধাপ মিলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। চলুন, রপ্তানি পণ্যের ক্রেতা খুঁজে নেওয়ার সেই ধাপগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।

এক্সপোর্ট মার্কেটিং এর ধাপ সমুহঃ

এক্সপোর্ট মার্কেটিং বা রপ্তানি বাণিজ্য বলতে মূলত, বিদেশে প্রচারণা, ব্র্যান্ডিং এবং বিজ্ঞাপন পরিচালনার মাধ্যমে কোন একটি পণ্য বা সেবার ক্রেতা অথবা আমদানিকারক খুঁজে বের করাকে বোঝায়। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্যই থাকে লিড জেনারেট করা। বায়ারের কাছে পণ্যকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা, তার ডকুমেন্ট সাজানো, মূল্য তৈরি করা এবং প্রচারণা- এই সবগুলো দিকের মিশ্রণেই রপ্তানি বিপণন গড়ে ওঠে।

সম্ভাব্য বাজার, পণ্য, লজিস্টিক সংক্রান্ত সহায়তা, টাকা পরিশোধের পদ্ধতি, পণ্য শিপমেন্টের ঝুঁকি ইত্যাদি সংক্রান্ত গবেষণা করাই এক্সপোর্ট মার্কেটিং-এর প্রধান উপাদান। রপ্তানি বিপণনের ক্ষেত্রে আপনার পণ্যটিকে অবশ্যই রপ্তানি উপযোগী হতে হবে। এছাড়া বায়ার পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সবগুলো বাজার সম্পর্কে বিশ্লেষণও করতে হবে।

সাধারণত, রপ্তানি বিপণনের মাধ্যমে লিড জেনারেশন করা হলেও, সেখান থেকে যথাযথ পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য বায়ারকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়।

টার্গেট মার্কেট বা সম্ভাব্য বাজার বিশ্লেষণ

টার্গেট মার্কেট বলতে সেই বাজারকে বোঝায় যেখানে বা যেই বাজারের ক্রেতাদের কাছে আপনি আপনার পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে পারবেন আশা করছেন। যদি কোন নির্দিষ্ট একটি বাজারে আপনার পণ্যের চাহিদা থেকে থাকে এবং সেখানে আপনি পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হন, তাহলে সেটাকে টার্গেট মার্কেট ধরে কাজ করা উচিত।

ক)  মার্কেটের কার্যকারিতা নিশ্চিত করুনঃ

প্রথমেই নির্দিষ্ট কোন একটি বাজার আপনার পণ্যের রপ্তানি এবং ব্যবসার জন্য কার্যকরি হবে কিনা তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে-

  • পণ্যের মান এবং টেকসইতা নিশ্চিত করুন
  • ব্যবসায়িক অঞ্চল বিশ্লেষণ করুন
  • সম্ভাব্য ক্রেতার প্রোফাইল ও অবস্থান বিশ্লেষণ করুন
  • বাজারের সম্ভাব্য ত্রুটিগুলো বিচার করুন
  • মার্কেটিং-এর কৌশল সম্পর্কে ভাবুন

খ) নির্ধারিত বাজারে প্রবেশ করুনঃ

মার্কেট পেনিট্রেশন বা প্রবেশ বলতে আপনার নির্ধারিত বাজারে বিক্রি হওয়া পণ্য বা সেবার শতকরা হিসাবকে বোঝায়। (নির্ধারিত বাজারের কত শতাংশ আপনার পণ্য কিংবা সেবা ক্রয় করছে- এভাবে দিলে মনেহয় আরো একুরেট হয়) এই হিসাবের মাধ্যমে আপনার পক্ষে খুব সহজেই বিক্রি হওয়া পণ্য বা সেবার পরিমাণ বোঝা সম্ভব হবে। আপনার টার্গেট মার্কেট ব্যবসার উপযোগী হলে, সেক্ষেত্রে দ্রুত যথাযথ বাজারগুলোকে চিহ্নিত ও সেখানে প্রবেশ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মার্কেটে প্রবেশ করতে আপনি-

  • পণ্যের প্রচারণা বাড়াতে পারেন
  • ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের জন্য শক্তিশালী মাধ্যম তৈরি করতে পারেন
  • পণ্যের মান বাড়াতে পারেন
  • ঝুঁকি এবং বৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে পারেন
  • পণ্যে ভিন্নতা ও নতুনত্ব নিয়ে আসতে পারেন

গ) সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার

বাজারের কার্যকরিতা এবং বাজারে প্রবেশের ফলাফলের কথা মাথায় রেখে যথাযথ বিদেশী বায়ার খোঁজার জন্য আপনি প্রচলিত এবং ডিজিটাল- দুই ধরণের পদ্ধতিই অবলম্বন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি বেশি কাজ করবে তা বুঝতে হলে এই দুই ধরণের পদ্ধতি সম্পর্কেই জানতে হবে আপনাকে।

বিদেশী বায়ার খোঁজার প্রচলিত পদ্ধতি

বৈদেশিক দূতাবাস

বৈদেশিক দূতাবাসের সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করুন এবং সম্ভাব্য ক্রেতার সাথে যোগাযোগ করার জন্য ভ্রমণ করুন।

ট্রেড ফেয়ার বা বাণিজ্য মেলা

বৈদেশিক নানাবিধ মেলায় আপনার পণ্যকে তুলে ধরুন। এটি আপনার সেবা বা পণ্যকে সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে সাহায্য করবে।

রপ্তানিকারকদের ডিরেক্টরি

রপ্তানিকারকদের সাথে যোগাযোগের জন্য থাকা ডিরেক্টরিতে নিজের নাম সংযুক্ত করার চেষ্টা করুন এবং ডিরেক্টরির সাহায্যে অন্যদের সাথে যোগাযোগ করুন। এখানে আপনার নাম থাকলে বিদেশী বায়াররা আপনাকে এখানে খুঁজে পাবে।

চেম্বার অব কমার্স

চেম্বার অব কমার্সে আরো অনেক ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ এবং সেখান থেকে নানাবিধ তথ্য ও সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভব।

ব্যবসায়িক সংঘ

প্রতিটি দেশেই ব্যবসায়িক কিছু সংঘ কাজ করে থাকে। বিদেশী বায়ার পাওয়ার ক্ষেত্রে এবং পণ্যের প্রচারণায় তাদের সাথে সংযুক্ত হোন।

বিদেশি এজেন্সি

সম্পূর্ণ নতুন দেশে ব্যবসা প্রসারে বিদেশি এজেন্সিগুলোর সহায়তা নিন। এতে করে কম সময়ে ও কম খরচে আপনি অনেকটা দূর এগিয়ে যেতে পারবেন।

আধুনিক পদ্ধতি

ডিজিটাল মার্কেটিং

বৈশ্বিক অগ্রগতির এই সময়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ডিরেক্টরিতে প্রবেশ এবং ওয়েবসাইট তৈরি অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। তাই দেরী না করে পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা পেতে এই কাজগুলো করে ফেলুন।

  • ওয়েবসাইট তৈরি
  • অনলাইন বিজনেস ডিরেক্টরিতে নাম অন্তর্ভূক্তিকরণ
  • লিংকডইন এবং গুগলে ব্যবসায়িক পেইজ তৈরি

কনটেন্ট মার্কেটিং

পণ্য বা সেবা ক্রয়ের আগে বায়ার পণ্য বা কোম্পানির অবস্থান এবং মান যাচাই করতে অনলাইন রিভিউ দেখে থাকেন। তাই যথাযথ সময়ে পণ্য এবং প্রতিষ্ঠানের রিভিউ প্রদান করুন।

  • প্রোডাক্ট রিভিউ
  • কোম্পানি রিভিউ

গ্লোবাল বিটুবি মার্কেটপ্লেস

অনলাইন শোরুম যেকোনো পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই গ্লোবাল বিটুবি মার্কেটপ্লেসে প্রবেশ করুন।

  • অনলাইন শোরুমে পণ্যের তথ্য প্রদান
  • স্বীকৃত অনলাইন শোরুম তৈরি

বিদেশী বায়ার এর সাথে যোগাযোগ এবং চুক্তি স্থাপন

উপরোক্ত তিনটি পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর খুব সহজেই আপনি এবং আপনার পণ্য কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। বায়ারের সাথে যোগাযোগের পর তার সাথে হৃদ্যতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। এতে করে ক্রেতার সাথে আপনার ব্যবসায়িক সম্পর্ক দৃঢ় হবে এবং আপনি ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হবেন।

নিজের পণ্য বা সেবা নিয়ে আপনি শতভাগ নিশ্চিত? সবগুলো ধাপ পার করে এসে যথাযথ বাজার এবং বিদেশী বায়ার চিহ্নিত করে ফেলছেন? তাহলে আর অপেক্ষা কীসের! দ্রুত নিজের পণ্যকে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিন এবং বায়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন।

এলসি একাউন্ট খোলার আগে ও পরে যা যা অবশ্য করণীয়

রপ্তানি বাণিজ্যে একজন এক্সপোর্টার হিসেবে আপনি নিশ্চই দ্রুত পেমেন্ট পাওয়া নিয়ে নিশ্চিত হতে চাইবেন, এটাই তো স্বাভাবিক। আর এক্ষেত্রে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারককের মধ্যবর্তী বিশ্বাসের ভিত্তি হিসেব কাজ করে থাকে ব্যাংক। এলসি (Letter Of Credit- লেটার অফ ক্রেডিট) ডকুমেন্টসের মাধ্যমে পেমেন্টের এই নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে ব্যাংক। এলসি অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া এবং এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্যাদি নিয়েই আজকের এই লেখাটি।

এলসি বা লেটার অব ক্রেডিট কী?

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে ডকুমেন্টটি না থাকলে বাণিজ্য করা সম্ভবপর নয়, সেটি হলো লেটার অব ক্রেডিট বা এলসি। তাই একে ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন পেয়িং ডকুমেন্টও বলা হয়। সাধারণত, আমদানিকারকের ব্যাংক পেমেন্টের নিশ্চয়তা হিসেবে রপ্তানিকারকের ব্যাংককে লেটার অফ ক্রেডিট প্রদান করেন। কোন ব্যাংক থেকে লেটার অফ ক্রেডিট পাওয়ার ক্ষেত্রে আমদানিকারককে সেই ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা জমা রাখতে হয়। তবে ব্যবসায়িক পরিচিত ব্যক্তিত্ব, অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তির ব্যবসায়িক ইতিহাস ইত্যাদির উপরে ভিত্তি করে অনেক ব্যাংক গচ্ছিত টাকা ছাড়াই আমদানিকারককে লেটার অব ক্রেডিট প্রদান করেন।

এলসি কার্যক্রম

লেটার অব ক্রেডিটের অন্তর্ভূক্ত পেমেন্টের শর্তাদিতে বর্ণিত সেলস/পারচেজ কন্ট্রাক্ট অনুসারে লেটার অব ক্রেডিটের কার্যক্রম শুরু হয়। এক্ষেত্রে পেমেন্ট ট্রানজেকশন সম্পূর্ণ করতে বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় কয়েকটি পার্টি সংযুক্ত থাকেন। রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এলসি তৈরির আগে এ সম্পর্কে ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।

এলসি একাউন্টের ৪ টি পার্টি

সাধারণত, এলসি খোলার প্রক্রিয়ায় কয়েকটি (৪ টি) পার্টি জড়িত থাকেন। পার্টিগুলো হলো-

  • ১। আমদানিকারক
  • ২। আমদানিকারকের ব্যাংক (ইস্যুকৃত ব্যাংক)
  • ৩। রপ্তানিকারক
  • ৪। রতানিকারকের ব্যাংক (ইস্যুকৃত ব্যাংক)

সংক্ষেপে এলসি-র সম্পূর্ণ কার্যক্রম

  • ১। বায়ারের সাথে সেলস কন্ট্রাক্ট শুরু করা করা
  • ২। আমদানিকারকের পক্ষ থেকে লেটার অফ ক্রেডিট আবেদন
  • ৩। আমদানিকারনের ইস্যুকৃত ব্যাংক থেকে লেটার অফ ক্রেডিট ইস্যু করা
  • ৪। রপ্তানিকারকের ব্যাংক থেকে লেটার অফ ক্রেডিট অ্যাডভাইজ করা
  • ৫। রপ্তানিকারক দ্বারা শিপমেন্টের ব্যবস্থা করা
  • ৬। রপ্তানিকারক দ্বারা ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা
  • ৭। রপ্তানিকারক দ্বারা ডকুমেন্ট প্রদান
  • ৮। আমদানিকারকের ব্যাংক থেকে ডকুমেন্টস গ্রহণ এবং পেমেন্ট প্রদান

একাউন্ট খোলার পূর্ববর্তী ধাপগুলো

এলসি খোলার পূর্বে বেশ কয়েকটি ধাপে কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করার প্রয়োজন হয়। সেগুলো হলোঃ

১। কন্ট্রাক্ট বা চুক্তি

এলসি খোলার পূর্বে ক্রেতা (আমদানিকারক) এবং বিক্রেতার (রপ্তানিকারক) মধ্যবর্তী চুক্তি সম্পন্ন হতে হবে। এই চুক্তিতে পণ্যের বিবরণ, শিপিং-এর কন্ডিশন, পেমেন্ট পদ্ধতি, শিপিং-এর তারিখ ইত্যাদি লিখিত থাকবে। জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নয়, চুক্তির সংক্ষিপ্ত রূপ প্রোফর্মা ইনভয়েসে লিখিত থাকবে।

২। অ্যাপ্লিকেশন বা আবেদন

কন্ট্রাক্ট সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রেতা/বায়ার ইস্যুকৃত ব্যাংকে লেটার অফ ক্রেডিট এর জন্য আবেদন করবেন। এক্ষেত্রে মর্টগেজের পরিমাণ আমদানিকারকের সাথে ব্যাংকের সম্পর্কের উপরে নির্ভর করবে। ব্যাংক এছাড়াও গ্রাহকের ব্যাংকে এসময় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট স্বাক্ষর এবং জমা প্রদান করবে।

৩। এলসি ইস্যু

পরবর্তী ধাপে ব্যাংক লেটার অফ ক্রেডিট ইস্যু করবে। ইউসিপি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী শর্তাদি প্রদান করা হবে। সাধারণত, এক্ষেত্রে ইস্যুকৃত ব্যাংক বিদেশের নির্ধারিত ব্যাংকে এসডব্লিউআইএফটি বা সুইফটসহ প্রদান করে। এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক বা রপ্তানিকারকের/এক্সপোর্টারের ব্যাংককে অ্যাডভাইজিং ব্যাংক বলা হয়।

একাউন্ট খোলার পরবর্তী কার্যক্রম

১। এলসি অ্যাডভাইজিং

ইস্যুকৃত ব্যাংক থেকে লেটার অফ ক্রেডিট গ্রহণ করার পর, এক্সপোর্টারের অ্যাডভাইজিং ব্যাংক এলসি সম্পর্কে রপ্তানিকারককে বা এক্সপোর্টারকে জানায়। এই কাজ বাবদ ব্যাংক কিছু অ্যাডভাইজিং চার্জ কেটে রাখে। এক্ষেত্রে অ্যাডিভাইজিং ব্যাংক, অ্যাডভাইজিং ব্যাংক লোন বা পেমেন্ট প্রদানের কোনরকম দায়িত্ব গ্রহণ করে না। তবে লেটার অফ ক্রেডিট অ্যাডভাইজর, ইমপোর্টারের ইস্যুকৃত ব্যাংক থেকে যে এলসি পাঠানো হয়েছে এবং নকল নয় তা রপ্তানিকারককে নিশ্চিত করেন। 

২। শিপিং অ্যারেঞ্জমেন্ট

নিজের অ্যাডভাইজিং ব্যাংক থেকে পাওয়া এলসির উপর আস্থা রেখে, রপ্তানিকারক পণ্যের শিপমেন্ট করার প্রস্তুতি শুরু করেন। এলসি-তে ইমপোর্টারের উল্লিখিত পোর্টে পণ্য পৌঁছানোর লক্ষ্যে রপ্তানিকারক, শিপমেন্ট কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করেন এবং জাহাজ, বাস বা প্লেনে পণ্য পাঠান।

৩। ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা

পণ্যের রপ্তানি নিশ্চিত করতে রপ্তানিকারক নিজস্ব কিছু ডকুমেন্টস তৈরি করেন এবং অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে কিছু ডকুমেন্টস সংগ্রহ করেন। এই ডকুমেন্টসের মধ্যে কমার্শিয়াল ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, বিল অব ল্যাডিং/এয়ারওয়ে বিল/ ট্রাক রিসিপ্ট, বিল অব অরিজিন ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত থাকে।

৪। ডকুমেন্টস প্রদান করা

সমস্ত ডকুমেন্টস প্রস্তুত করা শেষে রপ্তানিকারক উপরোক্ত ডকুমেন্টসগুলো অ্যাডভাইজিং ব্যাংকে প্রদান করেন। অ্যাডভাইজিং ব্যাংক কাগজগুলো যাচাই করে আমদানিকারকের ব্যাংকে এলসি পেমেন্ট গ্রহণের জন্য প্রদান করে।

৫। ডকুমেন্টের সত্যতা যাচাই ও ব্যাংক পেমেন্ট

লেটার অব ক্রেডিটের সাথে প্রদানকৃত কাগজাদি, এই যেমন- কমার্শিয়াল ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, বিল অব ল্যাডিং, ইন্সপেকশন সার্টিফিকেট, সার্টিফিকেট অব অরিজিন ইত্যাদি মিলিয়ে এবং সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে  ইমপোর্টারের ইস্যুকৃত ব্যাংক ডকুমেন্টসগুলো গ্রহণ করে। ডকুমেন্টস সঠিক হলে এলসি পেমেন্ট প্রদান করা হয়। আমদানিকারক ব্যাংকের কাছ থেকে সমস্ত চার্জ, ইন্টারেস্ট ইত্যাদির ডকুমেন্টস বুঝে পাবেন। অন্যদিকে, ডকুমেন্টসে কোন ভুল থেকে থাকলে সেক্ষেত্রে তা আমদানিকারককে জানানো হবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পোর্ট থেকে পণ্য গ্রহণের পর বৈদেশিক ব্যাংক পণ্যের মূল্য প্রদান করবে।

লেটার অফ ক্রেডিট রপ্তানি ও আমদানি বাণিজ্যে অসম্ভব প্রয়োজনীয় একটি ব্যাপার। তাই একজন রপ্তানিকারক হিসেবে এলসি করার পূর্বে ইস্যুকৃত ব্যাংক এবং লেটার অব ক্রেডিট সংক্রান্ত তথ্যাদি যথাযথভাবে জেনে নিন।

এলসি অ্যাকাউন্ট জড়িত বিভিন্ন পার্টির পরিচয় ও এলসিতে তাদের ভূমিকা কী?

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পেমেন্টের বিষয়াদি এলসির উপরে নির্ভরশীল হওয়ায় এলসি অ্যাকাউন্ট আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক- দুজনের কাছেই সমান গুরুত্ব রাখে। এলসির সাথে জড়িত থাকে বেশ কয়েকটি পক্ষ। কোন একটি পক্ষ এলসি তৈরির কাজে নিযুক্ত থাকে, কোন একটি পক্ষ নিযুক্ত থাকে এলসি তৈরি পরবর্তী কার্যক্রমে। এলসির শর্তাদি পূরণের ব্যবস্থাও করে অন্য পক্ষ। রপ্তানিকারকের পেমেন্ট যেমন এলসির উপরে নির্ভর করে, তেমনি আমদানিকারকের পণ্যও নির্ভর করে এলসির উপরে। তাই এলসি অ্যাকাউন্ট খোলা আগে এর সাথে জড়িত বিভিন্ন পক্ষ সম্পর্কে আপনার জানা দরকার। চলুন তাহলে, এলসি অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত পার্টিদের নিয়ে জেনে নেওয়া যাক।

এলসি অ্যাকাউন্ট এর তিন রকম পক্ষ

 ১। কমার্শিয়াল পার্টি বা ব্যবসায়িক পক্ষ

আবেদনকারী (আমদানিকারক)

যে পক্ষ নিজ দেশের ব্যাংকের কাছে লেটার অব ক্রেডিটের আবেদন জমা দেন, তাকের আবেদনকারী বলা হয়। সাধারণত, পণ্যের বায়ার/ক্রেতা এলসি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবেদন করেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ীই লেটার অব ক্রেডিট খোলা হয় এবং এলসির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তার অ্যাকাউন্টে রাখা হয়। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যবর্তী পারচেজ অর্ডার এবং ব্যবসায়িক চুক্তির শর্তয়ানুসারে আবেদনকারী বায়ার নিজ ব্যাংকের সাথে লেটার অব ক্রেডিট খুলে থাকেন।

সুবিধাভোগী (রপ্তানিকারক)

লেটার অব ক্রেডিটের অন্য প্রধান গুরুত্বপূর্ণ পক্ষটি হলেন সুবিধাভোগী বা এক্সপোর্টার। এলসির শর্তানুসারে এই পক্ষ পেমেন্ট পেয়ে থাকেন। এলসিতে উল্লেখিত পণ্য প্রদানের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেন এই পক্ষ। রপ্তানিকারক বা সুবিধাভোগীর পক্ষেই এলসি করা হয়। এলসির শর্তানুসারে নিজস্ব অ্যাডভাইজারি ব্যাংকে সমস্ত ডকুমেন্ট প্রদানের মাধ্যমে পেমেন্ট পান এই পক্ষ।

২। ব্যাংকার

এলসি ইস্যুয়িং ব্যাংক বা প্রদানকারী ব্যাংক

আমদানিকারকের অনুরোধে তার নিজ দেশের কোন ব্যাংক এলসি প্রদান করতে সম্মত হয়ে থাকলে সেই ব্যাংককে ইস্যুয়িং ব্যাংক বলা হয়। ইস্যুয়িং ব্যাংকের মূল দায়িত্ব হলো এলসির শর্তাদি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সম্মত হওয়া এবং যথাযথ শর্ত মেনে এক্সপোর্টার ডকুমেন্টস জমা দিলে তাকে টাকা প্রদান করা। মূলত আমদানিকারক ব্যাংকের শর্ত মেনে এলসি অ্যাকাউন্ট খুললে তারপরই রপ্তানিকারক নিজস্ব পণ্য সরবরাহে বা রপ্তানি করতে সম্মত হন ও শুরু করেন। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইস্যুয়িং ব্যাংক অত্যন্ত বড় ভূমিকা পালন করে। 

অ্যাডভাইজিং ব্যাংক

অ্যাডভাইজিং ব্যাংক মূলত রপ্তানিকারকের দিক থেকে কাজ করে। আমদানিকারকের পক্ষ থেকে ইস্যুয়িং ব্যাংক এলসি প্রদান করলে সেটি অ্যাডভাইজিং ব্যাংক গ্রহণ করে। অ্যাডভাইজিং ব্যাংক এবং ইস্যুয়িং ব্যাংকের মধ্যকার এই সম্পর্ক এজেন্সির মাধ্যমে তৈরি হয়। এই সম্পর্ককে বলা হয় করেসপন্ডেন্ট রিলেশনশিপ। অন্যথায় অ্যাডভাইজিং ব্যাংক ইস্যুয়িং ব্যাংকের এলসি গ্রহণ করতে সম্মত নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে অ্যাডভাইজিং ব্যাংক ইস্যুয়িং ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। সাধারনত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্নও ব্যাংক ( SCB/HSBC/CITI NA/Marshaqe etc) অ্যাডভাইজ না করলে এক্সপোর্টের ব্যাংক এল সি নিয়ে কাজ করতে চায় না কারণ সেটা বেশ ধুঁকি পূর্ণ । রপ্তানিকারকদের অবশ্যই ভাল অ্যাডভাইজিং ব্যাংক ছাড়া নতুন বায়ারের সাথে এল সি খলার আগে সতর্ক হওা উচিত। কারণ এখানে একটা জিনিস মনে রাখা উচিত । বায়ার এবং তার ব্যাংক দুই পক্ষই বিদেশে থাকে।

কনফার্মিং ব্যাংক

ইস্যুয়িং ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদানকৃত অ্যাডভাইজিং ব্যাংকের পেমেন্ট সংক্রান্ত নিশ্চয়তার পরেও তৃতীয় ব্যাংকের সাহায্য নেন অনেকে। এক্ষেত্রে যে ব্যাংকটি রপ্তানিকারককে পেমেন্ট প্রদান করার বাড়তি নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে, তাকে কনফার্মিং ব্যাংক বলা হয়।

নমিনেটেড ব্যাংক

রপ্তানিকারকের কর্তৃক ডকুমেন্টস জমাদানের ক্ষেত্রে ইস্যুয়িং ব্যাংক রপ্তানিকারকের যে ব্যাংকের নাম এলসিতে উল্লেখ করেন, সেটিকে নমিনেটেড ব্যাংক বলা হয়।

নেগোশিয়েটিং ব্যাংক

বায়ারের ইস্যুয়িং ব্যাংক রপ্তানিকারকের দেশের অন্য একটি ব্যাংককে বেছে নিতে পারেন। এলসির মাধ্যমে পাওয়া পেমেন্ট সংগ্রহ করতে সেই ব্যাংকে রপ্তানিকারককে তার ডকুমেন্টস প্রদান করতে হতে পারে। এই ব্যাংকটিকে নেগোশিয়েটিং ব্যাংক বলা হয়। ডকুমেন্টারি ক্রেডিটের উপরে ভিত্তি করে ইস্যুয়িং ব্যাংক, অ্যাডভাইজিং ব্যাংক বা অন্য যেকোনো ব্যাংক ফ্রি নেগোশিয়েবল ক্রেডিটের মাধ্যমে নেগোশিয়েটিং ব্যাংকের কাজ করতে পারে।

রিইম্বারসিং বা পরিশোধের ব্যাংক

ইস্যুয়িং ব্যাংক নেগোশিয়েটিং ব্যাংকের মাধ্যমে এলসির শর্তানুযায়ী রপ্তানিকারককে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। এর সেক্ষেত্রে এই অর্থ প্রদানের কাজটি করার জন্য অন্য যে ব্যাংকটিকে বেছে নেওয়া হয়, সেটিকে রিইম্বার্সিং ব্যাংক বলে। এক্ষেত্রে ইস্যুয়িং ব্যাংক নস্ত্রো এ/সি ডেবিট দ্বারা পরিচালিত হয়।

ট্রান্সফারিং ব্যাংক

এলসি-তে ট্রান্সফারেবল কথাটি উল্লেখ করা হলে সেই এলসিকে ট্রান্সফার এলসি বলা হয়। অর্থের প্রাথমিক সুবিধাভোগীকে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে যে ব্যাংককে ব্যবহার করা হয়, সেটিকে ট্রান্সফারিং ব্যাংক বলে।

৩। অন্যান্য পক্ষ

ইনস্যুরেন্স বা বীমা কোম্পানি

অর্থের নিরাপত্তার পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের জন্য বিমা কোম্পানি থেকে ইনস্যুরেন্স পলিসিও তৈরি করা হয়। সেক্ষেত্রে পরিবহনের সময় পণ্যের কোন ক্ষতি হলে কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বাধ্য থাকে।

ক্যারিয়ার বা বাহক (ট্রান্সপোর্টেশন কোম্পানি)

রপ্তানি পণ্য সমুদ্র, ট্রেন, ট্রাক, আকাশপথ ইত্যাদিতে যাতায়াত করতে পারে। সেক্ষেত্রে এই পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্যারিয়ার বলা হয়। পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মূল কাজটিই হলো পণ্যকে নির্দিষ্ট শিপমেন্ট পয়েন্টে পৌঁছে দেওয়া। শিপ ডকুমেন্টের ভেতরে ট্রান্সপোর্ট ডকুমেন্টকেও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হয়।

একটি পণ্য রপ্তানি হওয়ার সময় এই সাথে জড়িত থাকে অনেকগুলো পক্ষ। এদের প্রত্যেকের কাজগুলোই ছোট কিংবা বড় হলেও, সব মিলিয়ে তাদের প্রত্যেকটি কাজই রপ্তানি বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জড়ানোর আগে এলসি অ্যাকাউন্টের সাথে সম্পৃক্ত এই প্রতিটি পার্টি বা পক্ষ সম্পর্কে জেনে নেওয়া আবশ্যক। এতে করে বাণিজ্য কাজ যেমন সহজ হবে, তেমনি সফলতাও আসবে দ্রুত।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ভুবনে যত জালিয়াতি-অনিয়ম ও প্রতিকার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জালিয়াতি

জালিয়াতি বলতে অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তি বা কোম্পানী কর্তৃক অসৎ এবং বে-আইনি কর্মকাণ্ড অবলম্বন করাকে বোঝায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে নকল দলিল, নকল অর্থ পরিশোধ এর মত কাজকে জালিয়াতিভূক্ত করা চলে। জালিয়াতি একটি অপরাধ, এতে করে আস্থা, বিশ্বাস বা প্রতিজ্ঞার বরখেলাপ ঘটে। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে জালিয়াতি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। নানা হ্যাকিং এবং ফিশিং পদ্ধতি ব্যবহার করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অর্থ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে   নতুন বা অনভিজ্ঞদের জন্য এ এক কঠিন পরিস্থিতি।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিয়ম

অনিয়ম আর জালিয়াতি কিন্তু এক নয়। অনিয়ম ঘটে মূলত সমন্বয়ের অভাবে।

বহুল প্রচলিত কিছু অনিয়ম ও জালিয়াতি

সেই আদ্যিকাল থেকে জালিয়াতির নানা ধরণ আছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এগুলির ব্যবহারও ব্যাপক বিস্তৃত। কোন ক্ষেত্রে, কিভাবে এসব জালিয়াতি হতে পারে তা জানা থাকলে বিপদে পড়বার আশংকা থাকে না।এ সংক্রান্ত নথিপত্র থেকে কিছু বহুল প্রচলিত জালিয়াতি আর অনিয়মের ধরণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাকঃ

কালো টাকা সাদা এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন

কালো টাকা সাদা করা বলতে বে-আইনিভাবে অর্জিত টাকাকে বৈধতা দান করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। অর্থ আয়ের পেছনের বে-আইনি কর্মকাণ্ডকে আড়াল করাই এসবের উদ্দেশ্য। সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ জোগাড় আর ব্যবহারই হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ অর্থায়ন। 

দলিল জালিয়াতি

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নকল কাগজপত্রের মাধ্যমে অর্থ লোপাট করা, অথবা এক পণ্যের স্থলে অন্য পণ্য গছিয়ে দেওয়ার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

ঋণপত্র জালিয়াতি

ঋণপত্র জালিয়াতির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক ব্যাংকে যেসব আর্থিক বিবরণী আর দলিল জমা দেয় সেগুলি নকল। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংকের নামে নকল স্বাক্ষর দেখানো হয়। ইস্যুকারী ব্যাংক বা উপদেষ্টা ব্যাংকের কোন বাস্তব অস্তিত্বই নেই।

নকল বিল অব ল্যাডিং/ বহনপত্র

প্রকৃতপক্ষে পণ্য না পাঠিয়েই নকল বিল অব ল্যাডিং বা বহনপত্র দেখিয়ে অসাধু রপ্তানিকারকেরা টাকা তছরুপ করে।

নকল পরিদর্শন সার্টিফিকেট

আসল পণ্যের পরিবর্তে নিম্নমাণের পণ্য বা কোন পণ্য না গছিয়েই টাকা চুরি করে নেওয়ার পদ্ধতিও বহুল ব্যবহৃত।

ভুয়া এলসি’র (ঋণপত্র) বিপরীতে ব্যাক টু ব্যাক এলসি

বিদেশ থেকে ভুয়া ঋণপত্র দেখিয়ে পিঠোপিঠি ঋণপত্র খোলা হয়। পরে, এই ঋণপত্রের বিপরীতে কেনা মালামাল আত্মসাৎ করা হয়। এক্ষেত্রে পণ্যের প্রাপ্তি স্বীকার না করেই অ্যাকোমোডেশন বিল দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয় জালিয়াতচক্র।

খোলা বাজারে আমদানীকৃত পণ বিক্রয়

ব্যাক টু ব্যাক সিরিয়াল নং এর বিপরীতে পণ্য খোলা বাজারে বিক্রয় করে দেওয়া হয়, অথচ পণ্য আমদানীর কোন নথি কিন্তু থাকে না।

অন্যান্য নকল দলিল

নকল কাগজপত্র যেমন উৎপাদনের মিথ্যা সার্টিফিকেট, ভুয়া ইন্স্যুরেন্স সার্টিফিকেট বা ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রেও জালিয়াতি করা হয়।

এসব জালিয়াতির বাইরেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরো কিছু ঝুঁকি আছে। দেখে নেওয়া যাকঃ

  • দুর্নীতি ও ঘুষ
  • কর ফাঁকি
  • অ্যান্টিট্রাস্ট
  • আভ্যন্তরীণ লেনদেন
  • কালো টাকা সাদা করা
  • আর্থিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপরাধ
  • কমিশন, রেয়াত, ছাড়
Close-up Of A Human Hand Looking At Fraud Blocks Through Magnifying Glass On Invoice

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জালিয়াতি মোকাবেলার কৌশল

ভুল-ত্রুটি-পক্ষপাত বা সমস্যা সব ক্ষেত্রেই কিছু পরিমাণে মোকাবেলা করতে হয়। ইদানিং বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জালিয়াতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নকল দলিল বা কাগজপত্র এক্ষেত্রে আমদানীকারকদের মূল শত্রু। অর্থ পরিশোধ করা উচিৎ নিরাপদ মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জালিয়াতির হাত থেকে বাঁচতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম-কানুন এবং আপনি যে বাজারে লেনদেন করতে চান, সেই বাজার সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রাখা প্রয়োজন। আপনি নিজে এসব ব্যাপারে অভিজ্ঞ নাও হতে পারেন। সেক্ষেত্রে এসব ব্যাপারে অভিজ্ঞ কনসালট্যান্ট বা উকিলদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। বাজারের সম্ভাব্যতা যাচাই এর জন্য অ্যাকাউন্টিং এবং মার্কেটিং বিষয়ে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন।

ঋণপত্র এবং নিরাপদ অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি

বাণিজ্যে অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত শর্তাদি বা পদ্ধতি কেমন হবে তা নির্ভর করে দুই পক্ষের সম্পর্কের ওপর (উদাহরণস্বরূপ, দু’জন বাণিজ্যকারীর মধ্যে আস্থা থাকলে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক লেনদেন সহজতর হয়)। প্রত্যেক পক্ষেরই উচিৎ আর্থিক লেনদেনের শর্তাবলী পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।

এসডব্লিউআইএফটি/ সুইফট

সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিনান্সিয়াল টেলিকম্যুনিকেশন হচ্ছে একটি বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক। এর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যাদি নিরাপদে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে পেতে বা পাঠাতে পারে। সুইফট এর মাধ্যমে ঋণপত্র আসলেই উল্লেখিত ব্যাংক থেকে প্রদান করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আর্থিক লেনদেনের জন্য সুইফট খুবই সহায়ক।

চুক্তিপত্রে শর্তাদি সংযুক্ত করা

চুক্তিপত্রে কিছু শর্ত যোগ করে দিলে ভাল হয়। পণ্যের স্যাম্পল বা গুনমান, ইন্স্যুরেন্স, মুদ্রা, সার্টিফিকেট নিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। পণ্য উৎপাদনের আইনগত শর্তাদি আর বিধিনিষেধ যথানুসারে পালিত হয়েছে কি-না তাও খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুগম করবার জন্য গঠন করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা (আইটিও)। বর্তমানে এই দায়িত্ব পালন করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) । বিভিন্ন দেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুষ্ঠুভাবে পালিত হচ্ছে কি-না তার দেখভাল করে এই সংগঠন। নতুন আগতদের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বহু ঝুঁকি ও বিপদ আছে এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এসব সম্ভাবনা মাথায় রেখে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করলে ক্ষতি এড়িয়ে সফল বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানো সম্ভব। 

Fraud and Irregularities in International Trade

Fraud consists of dishonest and illegal activities perpetrated by individuals or companies in order to provide an advantageous financial outcome. When you face a criminal or wrongful deception in international trade like fake documents, fake payment, that will be called as fraud. Fraud actually a criminal activity that breach the confidence, trust and commitment. In today’s technological advancement, fraudulent activities have risen rapidly. Different hacking and phishing techniques are used to do criminal activities. It’s a tough task for those who are new in international trade.

Common Fraud and Irregularities

Money laundering and terrorist financing:

Money laundering is the process by which funds derived from unlawful conduct are given apparent legitimacy – in essence cleaning the criminal proceeds. Terrorist financing is the process by which funds are gathered and used for terrorist activity. Common frauds under money laundering are over-invoicing and under-invoicing. Over Invoicing occurs where invoices are shown higher value against the goods being exported or imported. Under Invoice is the opposite where the invoice price shown is lesser than the actual value of the goods exported or imported

Documentary Trade Fraud:

Instead of exporting goods through documentary fraud, attempting to embezzle money through false papers or giving a product, instead of giving another product, such efforts are made in international trade. Make proper documents to avoid this.

Fraud in LC:

Buyers submit the fake credits or fake documents to the bank many times. In these cases, the signatories of the concerned bank of the issuing bank are made fake. And the issuing bank and the Advising Bank are both fake. In this type of fraud exporters are denied payments despite exporting the ordered goods. One of the riskest scenario for exporters , too many manufacturers in Bangladesh feel prey to smooth-talking buyers

Fake Bill of Lading:

Some exporters try to embezzle money by not depositing the goods and depositing them in a false bill of lading bank.

Fake Inspection Certificate:

With low-quality products, instead of the committed quality, product is mixed with lower grade products or with no products, then false inspection certificate is fabricated with the importer.

Back to Back LC against Fake Export LC:

Back to Back LC is opened by showing the fake Master LC from abroad. Later, the goods purchased against back-to-back LC were embezzled.  Again, without accepting the goods, the Acceptance was obtained from the bank against Accommodation Bill, and in contrast, the bank was cheated by taking money from the bank.

Imported goods are sold in open market:

Against back-to-back serials, the goods are emptied by selling goods in open market without making goods imported.

Other Fake Documents:

In other papers, money is embezzled by creating false certificates of origin, insurance certificate, phyothosanti certificates etc.

Besides above fraudulent activities, there are some other risks remain in the international trade. These risks are given below:

  • Corruption and bribery
  • Tax fraud
  • Antitrust
  • Insider trading
  • Money laundering
  • Crime against financial system
  • Commission, rebates, Discounts
Close-up Of A Human Hand Looking At Fraud Blocks Through Magnifying Glass On Invoice

Defeat Fraud in International Trade

Nothing is free form biases. In another word, fraudulent activities in international trades have increased nowadays at a high rate. Fake documents can cause the main damage for business. Payment should be done in a secure way. To prevent fraud in international business, we can follow the following measures:

Acquire Expertise

If this is not your area of expertise, obtain advice from consultants or lawyers who specialize in both international trade contracts and the market you are trading in. Invest in accounting and marketing expertise when investigating bottom lines and market potential.

Employ Letters of Credit and Secured Payments Methods

While guidelines on payment terms and methods are relative to the business relationship (for example, established trust between two businesses may result in a longer payment term), each party should still take every precaution to create secure and clearly stated terms.

Confirmation by SWIFT

The Society for Worldwide Interbank Financial Telecommunication provides a network that enables both financial institutions worldwide to send and receive information about financial transactions in a secure, standardized and reliable environment. Whether LC is truly coming from issuing bank or not that should be confirmed by SWIFT. So, SWIFT is a secure way of payment in international business.

Place Requirement Clauses in Contracts

Negotiating requirements into contracts, such as product samples or analysis, insurance, currency, certification, and compliance or regulatory documentation is an effective measure to ensure you are dealing with legitimate parties.

Moreover, The International Trade Organization was the proposed name for an international institution for the regulation of trade. It basically regulates international trade among the countries. With the help of international trade organizations, fraudulent activities can be prevented.

Above all, There is danger in international trade we cannot deny. However, keeping these possibilities in mind, if proper precautions are taken, it is possible to carry out successful commercial activities without any loss.

A Basic Guideline for finding global buyers

Do you want to export? Remember that the first and the main step is to find the right buyer. If you already export goods, you need to find new buyers for global expansion of your business. The question is, how to find buyers? Global buyers can be found through a long process. Let’s discuss the process step by step.

Apply the Knowledge of Export Marketing

Export marketing means searching of buyers or importers for your products or services in foreign market by doing promotion, branding and advertisement. The main objective of export marketing is to generate lead. Export marketing involves the creation, documentation, pricing and promotion of an offering that will attract overseas customers and buyers.

The basic element of export marketing is researching everything including potential market, your products, logistical support, modes of payments, risk of shipment etc. Your product must be exportable. Every potential market must be analyzed to find out the right buyer for you.

Export marketing is done for lead generation. End of nurturing, that leads may turn into your potential buyers.

Analysis of Target Market

A target market is the pool of customers to whom you want to potentially sell your products or services. Your products must be demandable as well as exportable on that market.

Check Market Viability:

Whether your target market is viable or not for your business that must be checked by:

  • Considering Product Quality and Fragility
  • Analyzing Business Demographic
  • Studying Customer Profile and Demographic
  • Analyzing Market Narrowness
  • Considering Your Marketing Strategy etc.

Penetrate Your Target Market:

Market penetration is the percentage of a target market that consumes your product or service. It can also be a measure of your sales as a percentage of all sales for a product. If your target market is viable for you, then you need to penetrate these viable markets. You can penetrate your target market by:

  • Increasing Your Promotion
  • Developing Strong Distribution Channel
  • Improving Product Quality
  • Knowing Risk and Growth
  • Being Unique and Different etc.

Using Tools to find global buyers

Considering the result of market viability and market penetration several factors can be applied for finding buyers including traditional and digital. Which tools works best that will be decided based on scenario.

Traditional Way:  

  • Foreign Embassy: Establish good relations with foreign embassies and travel there to communicate with potential buyers or getting buyers information.
  • Trade Show / Trade Fair: Showcase your products at various overseas fairs. This will help your service or product to be the focus of buyer’s attention.
  • Importers directory: Try adding your name to the exporters directory for contacting with buyers through the directory. Global buyers will find you in the directory if you have your name listed here.
  • Chamber of commerce: It is possible to contact many more exporters in the Chamber of Commerce and get various information about buyers and export cooperation from there.
  • Trade Associations: In every country there are business or trade associations. Connect yourself with them for getting foreign buyers, buyers’ information and product promotion.
  • Foreign Agencies: Foreign agencies can help you to expand business in a whole new country. By doing this you can go a long way in less time and at less cost.

Modern Way

Digital marketing:

At this time of global and digital progress, access to social media and online directories and the creation of websites have become very important. So, do these following things to get acquainted and acceptance in global market without delay.

  • Optimized website
  • Listing in Online Business Directory
  • LinkedIn and Google Business Pages

Content marketing

Before purchasing a product or service, the buyer looks for online reviews to verify the location and quality of the product or company. So, provide product and organization reviews in a timely manner.

  • Product Review attracts the global buyers
  • Company Review can gain buyers trust

Global B2B Market Marketplace

Online showrooms increase the acceptability and reliability of any product many times over. So enter the Global B2B Marketplace and have a free showroom for your product!

  • Information and Product Enhanced Online Showroom
  • Verified online showroom

Reached and Deal with Buyer

After successful completion of last three stages, you will reach to buyers and your products get attraction from them. Finally, you may get involved in a deal with buyers and try to build a long-term relationship with them. Because one potential buyer will change your business.

Are you 100% sure about your product or service? Want go through all the steps to identify the appropriate market and global buyers? We recommend you to go through the modern ways beside the traditional ones to get global buyers quickly and easily.